মহামারির সতর্কতা দেরিতে দাও! চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এ অনুরোধ করেছিল? বিস্তারিতঃ

রোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে তথ্য গোপন করতে চেয়েছিল চীন। সে কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছিলেন। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ‘মহামারি সতর্কতা’ জারিতে বিলম্ব করার জন্য আহ্বান করেছিলেন। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানমের সঙ্গে আলাপকালে শি জিনপিং তাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন যেন তখনই বৈশ্বিক মহামারি সতর্কতা জারি করা না হয়। জার্মানির ডের স্পিজেল সাময়িকীতে দেশটির ফেডারেল ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে চীন সম্পর্কে এমন বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে।

ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের সঙ্গে আলাপ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সে সময়ই তিনি করোনা যে মহামারি এবং এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় এসব তথ্য তখনই যেন প্রকাশ না করা হয় সেজন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে এমন বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে এ ধরনের তথ্যকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে , ড. তেদ্রোস এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে গত ২১ জানুয়ারি কোনো কথাই হয়নি। এমনকি এখন পর্যন্ত তারা কখনো ফোনেও কথা বলেননি। সেখানে আরো বলা হয়েছে যে, এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং তা কভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের প্রচেষ্টা থেকে মানুষের দৃষ্টিকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হচ্ছে, গত ২০ জানুয়ারি মানুষ থেকে মানুষে করোনার সংক্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে চীন। এরপরেই সব ধরনের তথ্য সংগ্রহের পর গত ২২ জানুয়ারি এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সে সময় জানানো হয় যে, উহানে মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

যদি চীনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সত্যি হয় তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা সত্যি প্রমাণিত হবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীন-কেন্দ্রিক। গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ তোলে যে, চীনের প্রপাগান্ডা ছড়ানোতে একটি ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সে সময় সংস্থাটিকে অর্থ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গত সপ্তাহেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যা বলেছে তা ছিল মিথ্যা। সংস্থাটি আসলে চীনের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ৪১ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রাণহানী ঘটেছে ২ লাখ ৮১ হাজার মানুষের। সূত্র- kalerkantho ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।