আজহারীর সমালোচনাকারী কারা জানালেন গোলাম মাওলা রনি

হঠাৎ করেই মার্চ পর্যন্ত তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের কয়েকটি প্রোগ্রাম স্থগিত করে মালয়েশিয়ায় চলে যাওয়া ঘোষণা দেন সময়ের আলোচিত বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। এরপরও সমালোচনা যেন তার পিছুই ছাড়ছে না। তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আটঘাট বেঁধে অপপ্রচারে নেমেছেন অনেকেই। কারা আজহারীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন, কার তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন বা সমালোচনা করছেন যে বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন গোলাম মাওলা রনি যেখানে আজহারীকে নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। আর সেই ভিডিওটি ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও রনি বলেছেন, সময়ে অনেক মানুষের ভালোবাসার বিমূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন মিজানুর রহমান আজহারী। তাকে এক নজর দেখতে, তার বক্তব্য শুনতে মানুষ ছুটে যান। তাকে এই জনপ্রিয়তা ও সম্মান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দিয়েছেন। কারণ আল্লাহ না চাইলে পৃথিবীর সব সম্পত্তি দিয়ে, রাষ্ট্রীয় পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করেও এমন জনপ্রিয়তা আর ভালোবাসা পাওয়া যায় না।

মাহফিলে আজহারীর বক্তব্য বিষয়ে রনি বলেন, শৈশবকাল থেকেই দেলোয়ার হোসেন সাঈদির ওয়াজ শুনেছি। তাই সম্প্রতি বাংলাদেশের ওয়াজিনরা যেসব ওয়াজ করে তার বেশিরভাগই আমার কাছে পুরনো। আজহারীর ওয়াজ শুনেও এতে নতুন কোনো তথ্য পেয়েছি বলে মনে হয়নি আমার। এরপরেও তাকে নিয়ে বির্তক চলছে। মিজানুর রহমান আজহারীর সমালোচনা যারা করছেন, তাকে নিয়ে বিতর্ক করছেন বা কুৎসা রটাচ্ছেন তারা মূলত তিনটি গ্রুপে বিভক্ত বলে মনে করেন গোলাম মওলা রনি। তিনি বলেন, আজহারীকে নিয়ে অপপ্রচারকারী গ্রুপের প্রথমটি হলো- যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, নামাজ-রোজার ধার ধারে না, যারা মদ নিয়ে মত্ত থাকেন, যাদের অনুসরণের মতো কোনো ব্যক্তিত্ব নেই। তারাই আজহারীর কুৎসা রটান। রনি বলেন, এসব মানুষদের অনেকে ঈর্ষান্বিত হয়ে আজহারীর বিরোধিতা করেন। আজহারীর মতো জনপ্রিয়তা, ভালোবাসা তারা পান না। আজহারীর মতো যারা কায়িক শ্রম আর মেধা খরচ করে গবেষণামূলক কাজ করে বাংলাদেশে সাড়া ফেলেছেন তাদেরকে এসব লোক ঈর্ষা করে।

এর পর রনি বলেন, আজহারীর বিরুদ্ধে কথা বলা দ্বিতীয় গ্রুপটি ইসলামপন্থী। তারা শিক্ষিত, মার্জিত এবং তাদেরও অসংখ্য ভক্ত ও মুরীদ রয়েছে। তারা ইসলামি ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তারাও আজহারীর জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে তার বিরুদ্ধাচারণ করছেন। তারা মনে করেন, আজহারীর জনপ্রিয়তা যত বাড়বে তাদের মুরিদের সংখ্যা তত কমবে। আগের মতো তার মান-মর্যাদা থাকবে না।

রনি বলেন, সেসব আলেম ওলামাদের আয় রোজগার ওয়াজ-মাহফিল করেই হয়ে থাকে। আজহারীর জনপ্রিয়তার কারণে তাদের মাহফিলে মুসল্লির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তারা আর আগের মতো অফার পান না। তাদের কথায় মুসল্লিরা আর সেভাবে খুশি হয় না। হাতে টাকাও গুঁজে দেয় না। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, মাহফিলে লাফিয়ে লাফিয়ে জিকির করা, মঞ্চে পা ঝুলিয়ে মুরিদদের কদমবুসি নেয়া, ভক্তদের থেকে টাকা নেয়া কিছু ওয়াজিনদের জনপ্রিয়তা ইদানীং কমে যাচ্ছে।

এমন সব বক্তারা দেখছেন, আজহারীর মতো তরুণরা এসে তাদের মতো কাজ করছেন না। তবুও তাদের ভক্ত-অনুরাগীর শেষ নেই। এজন্য তারাও ঈর্ষপরায়ণ হয়ে পড়েছেন। রনি বলেন, আরেকটি গ্রুপ আছে যারা রাজনীতি করেন। এসব রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কথা বলে নিজের অবস্থান তৈরি করে। মূলত তারা যুদ্ধ করেনি, তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিও না। তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের কাছে গরু, ছাগল আর মুরগি বিক্রি করেছেন। কিন্ত তারা এখন মুক্তিযোদ্ধার তাবেদার হয়েছেন।

এই শ্রেণি ধরিবাজ রাজনীতিবিদরা সবসময়ই সমাজে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা তৈরিতে সচেষ্ট থাকে। এরা আজহারীর মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের বির্তকিত করা চেষ্টা করছেন। এর পর রনি বলেন, কিছু কিছু লোক আছেন যারা জনপ্রিয়তা পেতে মুখিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউবে তাদের বক্তব্য তেমন কেউ দেখে না। তারা তখন সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ট্রেন্ডিং, হট যেসব ইস্যু রয়েছে তা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে আলোচনায় আসতে চান। এমন কিছু লোক মিজানুর রহমান আজহারীর সমালোচনা শুরু করেছেন।